
মোঃ সাইফুল ইসলাম, নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিন সংঘটিত দুটি ঘটনায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধেছে, যাতে নারীসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। সংঘর্ষের প্রথম ঘটনা ঘটে ভলাকুট ইউনিয়নের সকালে এবং দ্বিতীয়টি ঘটে বুড়িশ্বর ইউনিয়নের সন্ধ্যায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুকুল সরকারের বাড়িতে ঈদের দাওয়াতের কথা বলে ষাটঘরপাড়ার আমিন মিয়াকে প্রতিপক্ষের সদস্যরা ডেকে নেন। অভিযোগ রয়েছে, তাকে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে ইব্রাহিম মিয়াকেও একইভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। স্বজনেরা তাদের উদ্ধারে গেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়, যার ফলে অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন, নিজাম উদ্দিন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
সকালে ভলাকুট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. তৈয়ব মিয়া এবং সাবেক ইউপি সদস্য বাচ্চু মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। তৈয়ব মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন ও বাচ্চু মিয়ার ছেলে মজনুর মধ্যে কথাকাটাকাটির পর উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে বাচ্চু মিয়ার পক্ষের ইকরাম মিয়া, রুবেল মিয়া, কাপতান মিয়া, মফিজ মিয়া, আরিফ মিয়া, জসিম মিয়া, আলমগীর মিয়া, ফরসু মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, আয়ুব আলী, খেলু মিয়া, ইউনুস মিয়া, হামিম মিয়া, ইমন মিয়া, রিফাত মিয়া, জহিরুল মিয়া, ছেনু মিয়া, তৈয়ব মিয়া, রফিজ আলী, ইসব আলী, খাজা আলম, জাহাঙ্গীর মিয়া, কালন মিয়া, আক্কাস আলী ও ইয়াসিন মিয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অপর পক্ষের আহতদের নাম এখনো জানা যায়নি।
নাসিরনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ লাল ঘোষ জানিয়েছেন, “সকালের বালিখোলা এবং সন্ধ্যার শ্রীঘর সংঘর্ষে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, পুরো এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।